Recent Posts

বাজেট কিভাবে প্রণয়ন করা হয়

 

বাজেট প্রণয়ন একটি পরিকল্পনা পদ্ধতি যা ব্যক্তিগত, পারিবারিক বা সরকারি খাতে আয়ের ও ব্যয়ের হিসাব তৈরি করে। এটি আয় এবং ব্যয়ের মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতি। বাজেট প্রণয়ন করার মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান তাদের অর্থনৈতিক লক্ষ্য পূরণ করতে পারে এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বাড়াতে পারে। 


বাজেট প্রণয়ন করার জন্য কয়েকটি সাধারণ পদক্ষেপ নিচে আলোচনা করা হলো:


১. লক্ষ্য নির্ধারণ:

বাজেট প্রণয়নের প্রথম ধাপ হল স্পষ্ট লক্ষ্য নির্ধারণ করা। আপনি কি আপনার আয় ও ব্যয় সামঞ্জস্য করতে চান, নাকি সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে চান? আপনার লক্ষ্য অনুযায়ী বাজেটের পরিকল্পনা তৈরি করা হয়।


উদাহরণ: 

- মাস শেষে একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ সঞ্চয় করা।

- বাড়ির মেরামত খরচ কমানো।

- জরুরি তহবিল তৈরি করা।

  

২. আয়ের হিসাব করা:

বাজেট তৈরি করতে হলে প্রথমেই আপনার মোট আয় নির্ধারণ করতে হবে। আপনার মাসিক বা বার্ষিক আয় থেকে সকল উৎসের হিসাব করুন:

- বেতন বা মজুরি

- ব্যবসা বা অন্য কোনো আয়ের উৎস

- অতিরিক্ত আয় (যেমন ফ্রিল্যান্সিং, ভাড়া, সুদ, ইত্যাদি)


টিপ: 

- আয় থেকে সমস্ত উৎসের তথ্য একত্রিত করে মোট আয় হিসাব করুন।

  

৩. ব্যয়ের হিসাব করা:

এখন আপনার মাসিক বা বার্ষিক ব্যয়ের হিসাব করা প্রয়োজন। ব্যয়ের মধ্যে নিম্নলিখিত বিষয়গুলো থাকতে পারে:

- স্থায়ী ব্যয়: বাড়ির ভাড়া, বিদ্যুৎ, পানি, গ্যাসের বিল, শিক্ষা, ঔষধ খরচ, বীমা প্রিমিয়াম ইত্যাদি।

- চলমান ব্যয়: খাদ্য, বাজার, ট্রান্সপোর্ট, বিনোদন, কাপড়, অন্যান্য খরচ।


টিপ:

- পূর্ববর্তী মাসগুলোতে আপনার ব্যয়ের হিসাব দেখে কোনো অপ্রত্যাশিত ব্যয় বাদ দেওয়া যেতে পারে।


৪. অত্যাবশ্যকীয় এবং বিলাসী ব্যয় আলাদা করা:

আপনার বাজেটে অত্যাবশ্যকীয় (ضروری) এবং বিলাসী (অপ্রয়োজনীয়) খরচের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করুন। যেমন:

- অত্যাবশ্যকীয় খরচ: খাবার, স্বাস্থ্য, শিক্ষাখরচ

- বিলাসী খরচ: সিনেমা দেখা, পছন্দের খাবার বাইরে খাওয়া, শখের জন্য ব্যয়


৫. সঞ্চয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ:

বাজেট তৈরি করার সময়, কিছু অংশ সঞ্চয় হিসেবে রাখতে হবে। সঞ্চয়ের উদ্দেশ্য বিভিন্ন হতে পারে:

- ভবিষ্যতে বড় কোনো পরিকল্পনা (বাড়ি কেনা, গাড়ি কেনা, ছুটি)

- জরুরি তহবিল

- অবসরকালীন সঞ্চয়


টিপ: 

- সঞ্চয়ের জন্য নির্দিষ্ট একটি পরিমাণ বা শতাংশ নির্ধারণ করুন (যেমন আয় এর ২০% সঞ্চয়ে রাখুন)।


৬. ব্যয় সামঞ্জস্য করা:

আপনার ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করুন। দেখুন, কোন ব্যয় আপনি কমাতে পারেন। অপ্রয়োজনীয় বা বিলাসী খরচগুলো কাটিয়ে সঞ্চয়ের পরিমাণ বৃদ্ধি করতে পারেন।


টিপ: 

- কিছু বিলাসী খরচ যেমন নতুন পোশাক, বাইরে খাওয়া, ইত্যাদি কমিয়ে ফেলতে পারেন।


৭. বাজেট পর্যালোচনা ও সমন্বয়:

বাজেট প্রণয়ন শেষে, এটি নিয়মিতভাবে পর্যালোচনা করুন। আপনার আয় বা ব্যয়ের মধ্যে কোনো পরিবর্তন হলে, বাজেটের সমন্বয় করা দরকার। এছাড়া মাসের শেষে ব্যয়ের হিসাব দেখে বুঝতে হবে যে আপনি আপনার লক্ষ্য অর্জন করতে পারছেন কিনা।


টিপ: 

- প্রতি মাসে একবার আপনার বাজেট পর্যালোচনা করুন এবং প্রয়োজনে সংশোধন করুন।


৮. বাজেটের প্রযুক্তিগত বা সফটওয়্যার ব্যবহার:

এখনadays বিভিন্ন অ্যাপ বা সফটওয়্যার রয়েছে যা বাজেট তৈরি করতে সহায়তা করে। আপনি চাইলে সেগুলি ব্যবহার করতে পারেন। যেমন: Mint, YNAB (You Need A Budget), Expensify ইত্যাদি। এগুলো আপনাকে বাজেট তৈরি করতে এবং তা নিয়মিত পর্যালোচনা করতে সহায়তা করবে।


উপসংহার:

বাজেট প্রণয়ন একটি দক্ষ ও কার্যকরী আর্থিক পরিকল্পনা প্রক্রিয়া। এটি আয়ের এবং ব্যয়ের মধ্যে ভারসাম্য তৈরি করে, সঞ্চয় ও বিনিয়োগের জন্য একটি কাঠামো প্রদান করে, এবং আর্থিক লক্ষ্য অর্জনে সহায়ক হয়। একটি সফল বাজেট তৈরি করতে হলে আপনাকে সঠিক পরিকল্পনা, সুশৃঙ্খলভাবে খরচ পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত পর্যালোচনা করতে হবে।

Post a Comment

0 Comments